নদীমাতৃক আবহমান গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক বাহক ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি সব নৌকা হারিয়ে যেতে বসেছে। যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে বিলুপ্ত প্রায় কাঠের তৈরি নৌকা। নদীতে সারি সারি পালতোলা নৌকার সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। নদ-নদী বেষ্টিত এলাকার বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিল এই নৌকা। নব্বইয়ের দশকেও নারায়ণগঞ্জের নদ-নদীগুলোর নৈসর্গ রূপের সৌন্দর্য ছিল সারি সারি নৌকা। সারি সারি নৌকার ছন্দবদ্ধ চলা আর বাতাসে পাল ওড়ার মনোরম দৃশ্য দেখে মনপ্রাণ আনন্দে নেচে উঠতো সবার। নদ-নদী গুলোর ওপর ব্রিজ তৈরি হওয়াতে নদীপথে মানুষ খুব একটা পারাপার হয় না।
সময়ের চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে যাতায়াত ব্যবস্থাও। শীতলক্ষ্যা নদীর গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া-রুপগঞ্জ, চনপাড়া- নোয়াপাড়া, তারাব-ডেমরা, কিংবা পূর্বাচল সংলগ্ন ঘাটগুলোতে একসময় প্রতিদিন হাজারো মানুষ পার হতেন এই কাঠের তৈরি নৌকায়। নব্বই দশক থেকে বাংলাদেশে নৌকায় ইঞ্জিন লাগানো শুরু হয়। তখন থেকে নৌকা একটি যান্ত্রিক বাহনে পরিণত হয়। এক সময় এসব নৌকাই ছিল মানুষজনের যাতায়াত ও পরিবহনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন নৌকায় নদীভ্রমণে তৃপ্ত হতো আমাদের মন। ডিঙ্গি নৌকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন। স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র বা ঘাটভিত্তিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এই হারানো ঐতিহ্যকে আবারও সামনে নিয়ে আসা যেতে পারে।
