March 7, 2026
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে আপস কেন নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, ড. আহসান এইচ মনসুর তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। যদিও রাজনৈতিক সরকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসায়—এটি বিশ্বজুড়েই দেখা যায়—তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদটি সাধারণ প্রশাসনিক পদ নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কারিগরি দায়িত্ব, যা রাজনীতির প্রভাবের বাইরে থাকা উচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। সুদের হার নির্ধারণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা কিংবা ব্যাংক তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত দক্ষতা। তাই গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে অপসারণ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি কাঠামো থাকে। সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সহজে অপসারণ না করার আইনগত সুরক্ষা রাখা হয়। এতে প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থেকে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।
বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি, সেখানে নিয়ম ও প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রক্রিয়ার ওপর।
গভর্নরের পদ কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন হলেও সেটি হওয়া উচিত স্বচ্ছ, শালীন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *