March 9, 2026
ছয় বছরেও প্রকাশ হয়নি মাউশির নিয়োগের ফল, দ্রুত ফল ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর ২০২০ সালের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির চূড়ান্ত ফলাফল ছয় বছর পেরিয়েও প্রকাশ হয়নি। বিশেষ করে চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের ফল প্রকাশের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বর্তমানে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তের কারণে আটকে রয়েছে।
দ্রুত তদন্ত শেষ করে ফলাফল প্রকাশের দাবিতে রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা। একই দাবিতে আগের দিন শিক্ষা ভবনের সামনেও কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
জানা গেছে, মাউশি ২০২০ সালে মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ২০২৩ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। তবে প্রদর্শক, গবেষণা সহকারীসহ চারটি ক্যাটাগরির ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের জুন মাসে এই পদগুলোর মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলেও ফল প্রকাশে দেরি হতে থাকে। প্রার্থীরা জানান, কোটা সংক্রান্ত জটিলতা মেটানো এবং গত বছরের এপ্রিলে বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির (ডিপিসি) বৈঠক হওয়ার পরও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর কোনো সমাধান না পেয়ে ১০ জন প্রার্থীর একটি প্রতিনিধিদল হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই আবেদনের পর আদালত মাউশিকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
পরে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মাউশি প্রার্থীদের একটি চিঠিতে জানায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বর্তমানে বিষয়টি দুদকের তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এরপর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুদককে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মাউশির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর দুদক সেই আদেশের কপি গ্রহণ করে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ছয় বছর পার হয়ে গেছে এবং প্রায় ২০ মাস আগে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলেও ফল এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরির বয়সসীমাও পেরিয়ে গেছে।
প্রার্থীদের দাবি, কয়েকজনের অনিয়মের কারণে হাজার হাজার সাধারণ প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে নির্দোষ প্রার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদকের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে প্রার্থীরা বলেন, যাঁরা অনিয়ম করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া যেন আর বিলম্বিত না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *