বয়স কেবলই একটি সংখ্যা—এই আপ্তবাক্যটি যেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের জীবনে এখন ধ্রুব সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের এই বিশেষ সন্ধিক্ষণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। বাঁধন স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, চল্লিশ বছর পার করার পর তার মনে হচ্ছে, জীবন যেন একদম নতুন করে শুরু হয়েছে। এই বয়সে এসে তিনি নিজেকে নতুনভাবে চিনতে পারছেন, নিজের শক্তির জায়গাগুলো বুঝতে পারছেন এবং সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার চাপ কাটিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে শিখছেন। তার মতে, চল্লিশের এই জীবন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত, আত্মবিশ্বাসী এবং অর্থবহ।
বাঁধন মনে করেন, আমাদের সমাজে নারীদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে আলোচনা হয়, তা আসলে এক ধরনের সংকীর্ণতা। তিনি এই প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের গ্রাফ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, চল্লিশ ছুঁইছুঁই সময়েই তিনি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর মতো বৈশ্বিক মানের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছেন। বাঁধনের ভাষ্যমতে, আগের বছরগুলোতে তিনি অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি জানেন তিনি কী চান। এই স্পষ্টবাদিতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তাকে এক নতুন বাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে ভয় নয় বরং এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করে।
বর্তমানে জীবনের এই নতুন ইনিংসে বাঁধন তার কাজ এবং ব্যক্তিজীবন—উভয় ক্ষেত্রেই এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখছেন। তিনি এখন আর স্রেফ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়ার পক্ষে নন, বরং বেছে বেছে এমন চরিত্রে কাজ করতে চান যা সমাজের গভীর কোনো বার্তা বহন করে। চল্লিশের এই ‘নতুন শুরু’ তাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে হয় এবং কীভাবে নিজের শর্তে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। তার এই জীবনদর্শন এখন অনেক নারীর জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা বয়সের ভারে থমকে না গিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পান।
