March 19, 2026
image (5)

চৈত্রদিনের রোদে স্নান সেরে চকচক করছে সবুজ পাতারা। এই পাতারা ফুলগুলোকে ঘিরে আছে চিরসখী সইদের মতো, যেন একদল রাজকুমারী ভরদুপুরে ঘুরতে বেরিয়েছে, হাওয়ায় দুলছে। তাদের অনেকে নামে ও চেহারায় চেনেন, অনেকে শুধু নামটাই শুনেছেন। একটু তাকালেই তাদের সাদা ওড়নায় মোড়া সোনালি-হলুদমাখা হাসিটাকে দেখা যায়, ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা পরিদের মনভোলানো দোলাটাও চোখে পড়ে।

এই ফুলগুলো আছে মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে। সড়কের ফুটপাত ঘেঁষে দুটি নাগেশ্বরের গাছে এই ফুলকন্যাদের সঙ্গে চাইলেই দেখা হয়ে যায়। এখানে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাগেশ্বরের গাছ আছে। এর মধ্যে অন্তত দুটিতে অসংখ্য ফুল ফুটতে দেখা গেছে। পাতার ফাঁক গলে এখন তারা পথচারীদের চোখে চোখ রেখে ডালে ডালে দুলছে।

এই কদিন থেকে প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ছোঁয়া লেগেছে গাছে গাছে। পাতা থেকে ধুলা মুছে গেছে। সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে নাগেশ্বরের গাছেও সেই বৃষ্টির জল পড়েছে কদিন। বৃষ্টি গাছের সব কটি পাতা, ডাল ও গাছের শরীর থেকে ধুলা ও জীর্ণতা ধুয়ে নিয়েছে। এমন সময়ে দুটি গাছে ফুল তো ফুটেছেই, পাতারাও ঘন সবুজের লাবণ্যে ফিরেছে।

মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যস্ত সড়ক থেকে দুটি গাছকে চোখে পড়ে, আলাদা করে চেনা যায়। এদের শরীরভরা এখন ফুলের উচ্ছ্বাস। গাছের শরীরে নিচ থেকে পাতারা ঝোপালো হয়ে জড়িয়ে আছে। আর গাছজুড়ে ফুলের সমাবেশ। একদম নিচ থেকে চূড়া পর্যন্ত থরে থরে সবুজ পাতার ফাঁকে ফুল ফুটে আছে। ফুলগুলো সাদা ঘোমটা খুলে মিটিমিটি করে হাসছে। কখনো হাওয়ার টোকায় দুলছে। ডালের ফাঁকে ফাঁকে অনেকগুলো ফুল ফুটেছে। গাছের মাঝামাঝি অংশের ডাল থেকে চূড়া পর্যন্ত ফুল।

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বই থেকে নাগেশ্বর সম্পর্কে জানা যায়, হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের বহু স্থানেই নাগেশ্বর সহজলভ্য। অযত্নেও সিলেট অঞ্চলে নাগেশ্বর জন্মে। এই ফুল পূজা ও গৃহসজ্জায় আকর্ষণীয় উপকরণ। নাগেশ্বরের উপমা ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ থেকে আধুনিক কাব্য পর্যন্ত ছড়ানো। নাগেশ্বর দীর্ঘাকৃতির বৃক্ষ। কাণ্ড গোল, সরল, উন্নত, ধূসর ও মৃসণ।বসন্ত হচ্ছে নাগেশ্বরের ফোটার কাল। মুকুল গোলাকৃতি এবং সবুজ-সাদা। ফুলের মুক্ত প্রসারিত দুধসাদা পাপড়ি—পাপড়ির মাঝখানে অজস্র সোনালি-হলুদ পরাগ। যা বর্ণে-গন্ধে অনন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *