বসন্তের শেষভাগে এসে হঠাৎ করেই বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছেয়ে আছে ঘন কালো মেঘে, আর সেই সাথে থেমে থেমে আসা বৃষ্টিতে ভিজেছে রাজপথ। কেবল ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মেঘলা আকাশ আর হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এই গুমোট আবহাওয়া এবং বৃষ্টিপাত আরও কিছুক্ষণ স্থায়ী হতে পারে, যা একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে সাময়িক ভোগান্তি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন—মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এবং মিরপুর এলাকায় ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই মেঘের ঘনঘটা লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঝিরঝিরে বৃষ্টি, যা কোথাও কোথাও বেশ জোরালো রূপ নেয়। এই আকস্মিক বৃষ্টির ফলে সকালের কর্মব্যস্ত মানুষেরা কিছুটা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে যারা ছাতা ছাড়াই অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটতে দেখা যায়। বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের সংখ্যাও কিছুটা কমে যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয় অনেকের। তবে কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পর এই মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির ছোঁয়া যেন এক পশলা প্রশান্তি বয়ে এনেছে সাধারণ নগরবাসীর মনে।
ঢাকার বাইরেও দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে দমকা হাওয়ার সাথে বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে গ্রামীণ জনপদে কিছুটা শীতল পরশ অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের এই সময়ে এমন আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এলেও নিচু এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন আয়ের ওপর এর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা আর রোদের অনুপস্থিতিতে আজ সারা দেশেই এক ধরনের স্নিগ্ধ গোধূলি আবহ বিরাজ করছে।
বিকেলের দিকেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও মেঘলা ভাব কাটতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে থাকা কাদা আর জলজট এড়িয়ে পথচারীদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপ উপভোগ করার পাশাপাশি আগামীকালের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
