সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা থেকে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির একটি ‘খয়রা কাস্তেচরা’ পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীদের তৎপরতায় পাখিটি উদ্ধার করা হয়, যা বর্তমানে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার একটি জলাশয়ের পাশে পাখিটিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। প্রাথমিকভাবে পাখিটি উড়তে না পারায় এবং বিড়ালের আক্রমণের শিকার হতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়রা সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাখিটিকে নিজেদের জিম্মায় নেন।
প্রাণীবিজ্ঞানীদের মতে, খয়রা কাস্তেচরা (Glossy Ibis) বাংলাদেশের একটি বিরল পরিযায়ী পাখি। লম্বা কাস্তের মতো বাঁকানো ঠোঁট এবং গাঢ় খয়েরি রঙের পালকের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। সাধারণত হাওর, বিল ও বড় জলাশয়গুলোতে এই পাখির বিচরণ দেখা যায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাসস্থানের সংকটে এদের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। উদ্ধারকৃত পাখিটি সম্ভবত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল অথবা খাদ্যাভ্যাসজনিত কোনো শারীরিক দুর্বলতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় বন বিভাগ জানিয়েছে, পাখিটিকে বর্তমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সুষম খাবার দেওয়া হচ্ছে। এর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে এবং ডানা পুরোপুরি সুস্থ হলে সেটিকে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে বা কোনো বড় জলাশয়ে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরাজগঞ্জের চলনবিল সংলগ্ন এলাকাগুলো বিভিন্ন প্রজাতির বিরল পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং পরিবেশ দূষণের ফলে এসব প্রাণীর জীবন এখন হুমকির মুখে। এই পাখিটি উদ্ধারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, যারা এই বিপন্ন পাখিটি উদ্ধারে সহায়তা করেছেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং এলাকায় পাখি শিকার রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খয়রা কাস্তেচরা মতো প্রতিটি বন্যপ্রাণী টিকিয়ে রাখা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব।
