April 1, 2026
উৎসবে শামিল হতে চান ৭০০ শিক্ষার্থী: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত ও ছুটির দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই কিংবা বৈসু উপলক্ষে এবার উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উৎসবে শামিল হতে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকানের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তাঁরা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধিদল উল্লেখ করেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। প্রতিবছর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এই জনগোষ্ঠীগুলোর প্রধান উৎসবগুলো উদযাপিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কোনো ছুটির বিধান নেই। ফলে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা তাঁদের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি জানান, সংবিধানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্য নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলা নববর্ষের ছুটি থাকলেও তাঁদের উৎসবের সময় কোনো ছুটি রাখা হয়নি, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই এই সময়ে পরীক্ষা স্থগিত বা ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। অথচ পাহাড়ের সবচেয়ে কাছের এবং বেশি সংখ্যক পাহাড়ি শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা প্রধানত দুটি দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করে তা স্থায়ীভাবে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, এই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সকল পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ করা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে তাঁদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া অপরিহার্য।

এদিকে উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান স্মারকলিপি গ্রহণ করে জানিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়েছে এবং একাডেমিক কমিটির সাথে আলোচনা করে দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন পাহাড় থেকে আসা শত শত শিক্ষার্থী। তাঁরা আশা করছেন, এবার নিজ নিজ সম্প্রদায়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারের এই দীর্ঘদিনের অসংগতি দূর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *