সংসদে করোনা মহামারি চলাকালীন স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, করোনা মোকাবিলায় টিকা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সরকার ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছিল। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন যে, এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করে দেশের মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী টিকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে উক্ত কেনাকাটায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
মহামারির সেই সংকটকালীন সময়ে দ্রুততম সময়ে টিকা সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবন রক্ষাই ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তখন জরুরি ভিত্তিতে অনেক সরঞ্জাম ক্রয় করতে হয়েছিল যাতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে। তবে এই ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন উঠলে তা ধামাচাপা দেওয়া হবে না। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগের সত্যতা মিললে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। সরকারের এই অবস্থান মূলত জনস্বার্থে আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, করোনা টিকা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার প্রতিটি হিসাব সংরক্ষিত আছে। যদি কোনো পক্ষ মনে করে যে সেখানে বিধি বহির্ভূত কোনো কাজ হয়েছে, তবে তারা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেশ করতে পারেন। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে এই তদন্তের আশ্বাস একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীর এই বক্তব্যে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
