April 29, 2026
image (12)

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিচিত্র ও চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে— যুক্তরাষ্ট্র নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে ‘মেঘ চুরি’ করছে। এই দাবির মূলে রয়েছে ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি। গত সপ্তাহে আল-রাশিদ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী তুরস্ক ও ইরান নাকি অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বিমানের মাধ্যমে মেঘ ‘ভেঙে’ দিচ্ছে বা সরিয়ে ফেলছে।

আল-খাইকানি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, সম্প্রতি ইরাকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে ‘ব্যস্ত’ রয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটন মেঘ চুরির কার্যক্রমে সময় দিতে পারছে না বলেই ইরাকের আকাশ আবার বৃষ্টিস্নাত হচ্ছে। এমনকি বিবিসির সঙ্গে আলাপকালেও তিনি অনড় থেকে জানান, ‘বায়ুমণ্ডল পরিবর্তনের অস্ত্র’ ব্যবহার করে ইরাকে কৃত্রিমভাবে খরা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের দাবি স্রেফ কল্পনাপ্রসূত এবং অবৈজ্ঞানিক। আধুনিক বিজ্ঞানে এমন কোনো প্রযুক্তির অস্তিত্ব নেই যা দিয়ে এক দেশের মেঘ অন্য দেশে চুরি করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বৃষ্টিপাত কোনো অলৌকিক বা রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং জলবায়ুর স্বাভাবিক নিয়মেই হচ্ছে। এমনকি বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার (২৮শে ফেব্রুয়ারি) অনেক আগেই গত বছরের সেপ্টেম্বরে আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছিল যে ২০২৬ সাল ইরাকের জন্য একটি বৃষ্টিবহুল বছর হবে।

বিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসছে। খরা বা অতিবৃষ্টির মতো ঘটনাগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফল, কোনো দেশি বা বিদেশি ‘অস্ত্রের’ কারসাজি নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এ ধরনের গুজব ছড়ানো জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, যদিও সামাজিক মাধ্যমে এই ‘মেঘ চুরির’ গল্প ডালপালা মেলছে, কিন্তু এর পেছনে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সঠিক তথ্যের অভাব এবং প্রযুক্তির ভুল ব্যাখ্যা থেকেই এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম হয়েছে। আবহাওয়া এবং ভূ-রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা আধুনিক যুগে একটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *