বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বগুড়া বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে এই উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল বাণিজ্যিক বিমান চলাচলই নয়, বরং দক্ষ জনবল তৈরিতে একটি বিশ্বমানের ফ্লাইং একাডেমি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ঘাঁটি স্থাপন করা হবে।
পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিপুল সংখ্যক দক্ষ পাইলট প্রয়োজন। বগুড়ায় স্থাপিত হতে যাওয়া ফ্লাইং একাডেমিটি সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি হবে।
এই প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানের বিমান ওঠানামার জন্য বর্তমান রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুটে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদলে থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি এখানে কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য, উন্নতমানের কৃষি যন্ত্রাংশ এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত ট্রেনিং স্কুলের পরিবর্তে এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মিত হবে, যা দেশের আকাশসীমা রক্ষায় উত্তরাঞ্চলে প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এই একাডেমি থেকে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক পাইলটরাও উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও মোশারফ হোসেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্গো টার্মিনাল চালু হলে সমগ্র উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বগুড়া হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র।
