ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার মো. সারওয়ার রাজধানীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। কমিশনার স্পষ্ট করে জানান যে, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই বিশেষ অভিযানে গত কয়েক দিনে তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভূত দেড় শতাধিক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট এবং গবাদি পশু পরিবহনের পথে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। চাঁদাবাজদের পাশাপাশি, বড় মাপের মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীদের পক্ষে যদি কোনো প্রকার তদবির বা সুপারিশ করা হয়, তবে সেই ব্যক্তিকেও অপরাধের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে। রাজধানীর শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার ও বসিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং সাধারণ জনগণকে নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
