May 19, 2026
image (8)

মন ও শরীরকে সতেজ করার জন্য একটি আরামদায়ক ঘুমই যথেষ্ট। ভালোভাবে ঘুমালে শারীরিক, মানসিক এবং আবেগিক স্বাস্থ্য ভারসাম্যপূর্ণ থাকার সম্ভাবনা থাকে। যদিও ঘুম সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে এটি শরীরকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করার জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এই তত্ত্বটি কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেই নয়, শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে সার্বিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গভীর ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘুম কেবল শরীরকে পুনরুদ্ধার করার একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও বিকাশের একটি সুযোগও বটে। অসংখ্য গবেষণায় অপর্যাপ্ত ঘুম এবং শিশুদের মানসিক অবস্থার মধ্যে যোগসূত্র দেখানো হয়েছে। শিশুরা পর্যাপ্ত ঘুম না পেলে কেবল ক্লান্তই বোধ করবে না, তাদের মস্তিষ্কের দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তাদের আবেগ অনুধাবন করতে ও নতুন তথ্য মনে রাখতে অসুবিধা হবে। ‘পেডিয়াট্রিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা শিশুদের বিভিন্ন বয়সের গোষ্ঠীর মধ্যে ঘুমের উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে।

যেসব শিশুর ঘুমের অভাব হয়, তারা আবেগগতভাবে অস্থির হতে পারে। তারা খিটখিটে এবং সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এটি মস্তিষ্কের সেইসব অংশের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত যা আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী, এবং শিশুর ঘুমের অভাব হলে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে। ফলস্বরূপ, শিশুরা মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করে এবং অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন বা বিষণ্ণ হতে পারে।

অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। মনোযোগের সময়কাল এবং একাগ্রতার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; শিশুদের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং দক্ষতার সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে অসুবিধা হতে পারে। স্কুলে যাওয়া শিশুদের ক্লাসের সময় মনোযোগ দেওয়া কঠিন মনে হতে পারে এবং তথ্য মনে রাখতে ও জটিল সমীকরণ সমাধান করতে সমস্যা হতে পারে।

ঘুমের অভাব সামাজিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করে বলে জানা যায়। শিশুর অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে এবং সাড়া দিতে অসুবিধা হতে পারে, যার ফলে ভুল বোঝাবুঝি এবং তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। ঘুমের অভাবের কারণে শিশুর আচরণ মনোযোগের ঘাটতিজনিত ব্যাধির (অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার) মতো হতে পারে।

শিশুর ঘুমের অভ্যাস উন্নত করার জন্য বাবা-মায়েরা তার জন্য ঘুমানোর আগে কিছু নিয়মকানুন তৈরি করতে পারেন। যেমন- ঘুমানোর আগে স্ক্রিনের ব্যবহার কমাতে পারেন, দিনের বেলায় শারীরিক কার্যকলাপকে উৎসাহিত করতে পারেন এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারেন। খিটখিটে মেজাজ, রাতে অতিরিক্ত কান্না এবং দিনের বেলায় ক্রমাগত তন্দ্রাচ্ছন্নতার মতো লক্ষণগুলো ঘুমের অভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং এগুলো একজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *