প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার ফের খুলে গেল সুন্দরবন। তবে প্রথম দিনেই বনে ঢোকার তেমন আগ্রহ দেখা গেল না জেলেদের মধ্যে। টানা বৃষ্টি, নদীতে মরা জোয়ারে মাছ কম পাওয়া এবং দস্যুদের আতঙ্ক—সব মিলিয়ে বনে যেতে এখনও দ্বিধায় মৎস্যজীবীরা।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৯৫৪টি নৌযানের বিএলসি রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র এক জন জেলে অনুমতিপত্র নিয়েছেন। কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন মিলিয়ে একই সময়ে ৩৭ জন জেলে বনে যাওয়ার অনুমতি নেন। জেলেদের একাংশের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় বেআইনিভাবে বিষ দিয়ে মাছ ধরায় মাছ ও কাঁকড়ার পরিমাণ কমেছে। পাশাপাশি দস্যুদের চাঁদার ভয়ও তাঁদের ভাবাচ্ছে।
তবে সুন্দরবন খুলতেই পর্যটনে ফিরেছে প্রাণ। সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার খুলনা থেকে সাতটি লঞ্চে প্রায় ২২০ জন পর্যটক বনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সাতক্ষীরা হয়ে কলাগাছিয়া ও দুবেকী-সহ বিভিন্ন গন্তব্যে পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে। এক দিনের ভ্রমণে করমজল ও হারবাড়িয়াও জনপ্রিয়।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলির পন্টুন মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
