October 3, 2026
image (17)

রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর কর্ম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন যে, বিগত দিনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের আর কোনো বিকল্প ছিল না এবং যদি তাঁরা সেই সময়ে তাঁকে অবতরণের অনুমতি না দিতেন, তবে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা দেশটির সেনাবাহিনী কোনো পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে আনতে যায়নি, বরং তৎকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও আকস্মিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির মতো ঘটনা এড়ানোর তাগিদেই তিনি একটি সামরিক বিমানে চড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখানে সেই মুহূর্তের ঘটনাগুলোর জন্য ভারত সরকারও প্রস্তুত ছিল না। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান যে, তিনি যখন ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন, তখনো তিনি সাংবিধানিকভাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, তাই তারা তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও স্বার্থের কথা বিবেচনা করে স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা কোন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে আর কার সঙ্গে রাখবে না। তিনি আরও বলেন যে, একটি প্রকৃত এবং পরীক্ষিত প্রতিবেশী রাষ্ট্র কখনো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি বা রাজনীতিতে অনধিকারচর্চা বা হস্তক্ষেপ করে না, যদিও যেকোনো পরিবার বা প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছোটোখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়, যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। সম্মেলনে বক্তৃতাকালে হাইকমিশনার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, পারস্পরিক ভূ-রাজনীতির বরফ গলানো এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও আস্থার জায়গায় টিকিয়ে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *