October 10, 2026
WhatsApp Image 2026-10-09 at 1.57.45 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছর পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পেল দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। সঙ্গে চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের (সাবেক বিডা) কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তিটি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ টার্মিনালটিতে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে।

চুক্তি সম্পন্নের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে এই নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইয়ের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে এরআগে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। বামপন্থীরা একে বাংলাদেশ বিক্রির চুক্তি বলে আখ্যা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ হয়। চুক্তির প্রতিবাদে দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন এসময়ে বলেন, আমরা মনে করি, এ চুক্তি বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে, তাদের ওয়েবসাইটে গেলে বিষয়টি বোঝা যাবে।

সাজ্জাদ জহির বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেওয়ার মানে হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আমেরিকা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। আমাদের নৌবন্দর, বিমানবন্দর সব ব্যবহার করবে তারা।

সাজ্জাদ জহির বলেন, এর প্রতিবাদ করার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের এক পর্যায়ে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করে। আজ যারা বাংলাদেশটাকে আমেরিকার কাছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন, তারা আজীবন দেশের বিশ্বাসঘাতক, বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আমরা বামপন্থীরা লড়াইয়ের মাঠে থাকব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা দেশের বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা করব। পুলিশের লাঠিপেটায় সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলেও সিপিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *