সিলেটে একটি মাজার সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বাউলগানের আসরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে একদল উগ্রপন্থী লোক। গত রাতে স্থানীয় একটি মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে এই গানের আসর বসলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল যুবক সেখানে চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেই মঞ্চ ভাঙচুর শুরু করে এবং বাদ্যযন্ত্রগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। হঠাৎ এই হামলায় সেখানে উপস্থিত শিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। হামলায় কয়েকজন বাউল শিল্পী ও আয়োজক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই একটি পক্ষ এই মাজারের গান-বাজনা বন্ধ করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। আয়োজকরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও অনুষ্ঠানের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বাউলদের বিতাড়িত করা হয় এবং সাউন্ড সিস্টেমসহ প্যান্ডেলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাউল ভক্ত ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির ওপর চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মাজার কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই অঞ্চলে এ ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড দমনে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
