February 13, 2026
Capture


এজেন্সি: চিকিৎসক এবং কোম্পানি প্রতিনিধিরা সহজভাবে এই পেশায় প্রবেশ করেননি। বছরের পর বছর কঠোর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁরা দক্ষতা অর্জন করেন। নতুন ওষুধের বৈশিষ্ট্য বোঝানো, রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা—এ সবই তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের অংশ।  

একজন ডাক্তার যখন রোগীর জীবন রক্ষার জন্য সঠিক ওষুধ নির্বাচন করেন, তখন সেটি শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়; এটি নৈতিক দায়বোধের প্রকাশ। একইভাবে, কোম্পানি প্রতিনিধিরাও প্রচলিত নিয়ম মেনে রোগীর মঙ্গলের জন্য তথ্য ভাগাভাগি করেন। তাঁদের পরিশ্রম ও সততা না থাকলে চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঠামোই ব্যর্থ হয়ে যেত।  

তাহলে শুধুমাত্র ব্যক্তির উপর দোষ চাপানো ঠিক হবে না। সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ব্যক্তিগত সততার সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ভেজাল ওষুধ বা নিম্নমানের চিকিৎসা কেবল আধুনিক সমস্যা নয়। মধ্যযুগীয় ইউরোপে খাবার ও ওষুধের ভেজালের কারণে মৃত্যুর ঘটনা থেকে “Apothecary Laws” চালু হয়েছিল। এ আইনগুলো রোগীর সুরক্ষা ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিল।  

বাংলাদেশের উপনিবেশকালে নীলচাষীদের জন্যও নকল ওষুধ এবং ভেজাল খাবারের সমস্যার উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এটি মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ। তবে যুগ পরিবর্তন সত্ত্বেও, সঠিক নিয়ম-নীতি ও সতর্ক নজরদারি না থাকলে সমস্যা পুনরায় ফিরে আসে।  এ ইতিহাস শেখায়—সিস্টেমের দুর্বলতা ও নৈতিক দায়িত্বের অভাব কেবল ব্যক্তির নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য বিপদ ডেকে আনে।

বিবেক ও নৈতিক প্রশ্ন

ওষুধ জীবন রক্ষাকারী। যদি ওষুধই জীবন নাশের কারণ হয়, মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে—ডাক্তার, বিক্রেতা নাকি কোম্পানিকে? যদি দেশে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির বীজ রোপণ করা হয়, তখন ঠিক কাদের থেকে সঠিক চিকিৎসা আশা করা যাবে?  

যে ব্যক্তি ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে, তিনিও এক একজন বাবা-মা। তবে কি তিনি ভেবেছেন অন্যের পরিবারও তার মতোই স্নেহ-ভালোবাসার উপর টিকে আছে? যদি তিনি এক মুহূর্তের জন্য ভাবতেন যে তাঁর সন্তানকেও কোনোদিন এই ভেজাল ওষুধ গিলে নিতে হতে পারে, তবে কি তিনি একই পথে হাঁটতেন?  

বিবেক জাগ্রত হলে বোঝা যেত—অন্যের সন্তানের কান্না আর নিজের সন্তানের হাসির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আর এই উপলব্ধিই হতে পারে পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ।

দুনিয়ার বিচার

যদি আমরা জেনেশুনে এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকি, তাহলে কি মনে হয় সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলাফল শুধুই পরকালে ভোগ করতে হবে? না—ফল দুনিয়াতেই আসে। মানুষ অসুস্থ হয়, অকালে প্রাণ হারায়, পরিবার শোকে ডুবে যায়, সমাজ হারায় কর্মক্ষম মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধ। এটাই দুনিয়ার বিচার—যেখানে অন্যের ক্ষতি আসলে আমাদের নিজেদের জীবন ও সমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সমাধানের আহ্বান

কষ্ট আমরা করি নিজের পরিবারের জন্য। অন্যেরাও তাদের পরিবারের জন্য একইভাবে কষ্ট করে। কষ্টই যখন করি, তখন হালাল উপায়ে উপার্জন করব না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারে সমাধান।  

ব্যক্তিগত বিবেক সচেতন হলে, ওষুধ ও খাদ্যে ভেজাল রোধে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমাদের নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক এবং পেশাজীবীদের মিলিত প্রচেষ্টা দরকার—এবং প্রতিটি নাগরিককেও সতর্ক ও দায়বদ্ধ হতে হবে।

শেষ বার্তা

পরকালের বিচার নিশ্চিত, কিন্তু দুনিয়ার বিচারও অস্বীকারযোগ্য নয়। ভেজাল খাবার বা নকল ওষুধের কারণে যদি আজই একটি প্রাণ ঝরে যায়, সেটি কি কেবল পরকালের সাজা? না, এটি বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা।  

তাই “সব সাজাই কি মৃত্যুর পরে হবে” ভাবনা আমাদের নীরবে বসিয়ে দেয়। সত্য হলো—আজই যদি আমরা বিবেকবান ও দায়িত্বশীল হই, তাহলে কালকের প্রজন্ম একটি নিরাপদ সমাজ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *