মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কায় ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী ছেড়ে আসা ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবশেষে নিরাপদ আশ্রয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। মূলত লোহিত সাগর ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় জাহাজগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে নোঙ্গর করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত কয়েক দিনে পর্যায়ক্রমে এই বিশাল জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছায়, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই জাহাজগুলোর অধিকাংশতেই শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য এবং জ্বালানি তেল রয়েছে। বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক নৌ-রুটগুলোতে যখন এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে, তখন জাহাজগুলোর চট্টগ্রামে অবস্থান নেওয়াকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সাধারণত হরমুজ প্রণালী হয়ে জাহাজগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে, কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে বিমা খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার অভাব দেখা দেওয়ায় জাহাজ মালিকপক্ষ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প রুট হিসেবে দক্ষিণ এশিয়াকে বেছে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, একসাথে এতগুলো বড় জাহাজ বন্দরে আসায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলেও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বন্দরের বার্থিং শিডিউল এবং জেটি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে যাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। জাহাজের নাবিক ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়েও চট্টগ্রাম বন্দর একটি নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানোর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং সম্ভাব্য সংকট এড়ানো সম্ভব হবে। তবে আন্তর্জাতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া আরও বাড়তে পারে, যা আমদানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আপাতত জাহাজগুলোর পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে
