চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ভর্তি হওয়া রোগীর প্রায় অর্ধেকই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখানে এসেছেন। এই চিত্রটি মূলত দেশের বর্তমান সড়ক ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার অভাবকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন জরুরি বিভাগে যে সংখ্যক রোগী আসছেন, তাদের বড় একটি অংশই হাত-পা ভাঙা বা মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় আহত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ওয়ার্ডগুলোতে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ এতই বেশি যে, অনেককে মেঝেতে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বড় একটি অংশের দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সড়ক দুর্ঘটনার এই ক্রমবর্ধমান হারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্য। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না গেলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সাধারণ রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিকল্প নেই।
