April 2, 2026
সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত বিরোধী অভিযানের চিত্র

সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে আরও ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযানে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার তেল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই অভিযান চলমান থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার একদিনেই সারাদেশে ৩৮১টি পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়ায় ১৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া একজনকে কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। একদিনের এই তল্লাশিতে ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং জরিমানা হিসেবে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা আদায় করা হয়েছে। অবৈধ মজুতের দায়ে এ পর্যন্ত মোট ২৪ জন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জব্দকৃত জ্বালানি তেলের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া তেলের মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার। এছাড়া ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার অকটেন এবং ৭০ হাজার ৫৪ লিটার পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন ডিজেল, ৯ হাজার ২১ টন অকটেন, ১২ হাজার ১৯৪ টন পেট্রল এবং ৪১ হাজার ৮৭৬ টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত।

রাজধানী ঢাকাতেও এই তদারকি কার্যক্রম অত্যন্ত জোরালোভাবে চলছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে। এর মধ্যে ১৫৮ লিটার অকটেন ও ১৩৮ লিটার ডিজেল ছিল, যা অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকরা মজুতের কথা স্বীকার করায় তাদের জরিমানা করার পাশাপাশি মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *