রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-তেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত এই ভবনকে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি বাসভবনটি ছেড়ে দেবেন। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন। চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান এবং ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় যমুনায় আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও সময়স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে তা আর এগোয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন-কে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিকল্প আবাসন নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়ে।
এদিকে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকায় বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রীর আবাসন নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশানে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাসায় উঠতে কিছুটা সময় নেবেন। আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের পর অধিকাংশ মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী নতুন বাসভবনে উঠতে পারবেন।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিপাড়ায় আবাসন পুনর্বিন্যাসের এ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
