মেহেরপুরে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর বিষপানে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। লোকলজ্জা আর চরম মানসিক যন্ত্রণায় ওই কিশোরী আত্মহননের পথ বেছে নেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ঘটনার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিবেশী এক যুবক ওই কিশোরীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এক পর্যায়ে তাকে ফুসলিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শারীরিক লালসার শিকার বানানো হয়। ধর্ষণের এই বিষয়টি জানাজানি হলে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কিশোরীটি ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিশোরীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় আহাজারি। তারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রভাবশালীদের চাপের মুখে তারা প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করতে সাহস পাননি।
মৃত্যুর পর ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে এবং আত্মগোপনে থাকা মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই জঘন্য অপরাধের পেছনে আর কারও উস্কানি বা সহযোগিতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
