ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বর্তমানে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় যানজটমুক্ত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বাস কাউন্টারগুলোতে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দীর্ঘ যানজটের চিরচেনা দৃশ্য উধাও হলেও পরিবহন কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পর্যাপ্ত বাসের অভাবে কাউন্টারগুলোতে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কে বড় কোনো যানজট না থাকলেও অনেক বাস নির্ধারিত সময়ে গন্তব্য থেকে ফিরতে পারছে না, যার ফলে শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। সায়েদাবাদ, জনপদ এবং টিটিপাড়া মোড়ের কাউন্টারগুলোতে সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক যাত্রী আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করলেও সময়মতো বাস না ছাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও দাউদকান্দি ব্রিজের মতো পয়েন্টগুলোতে গাড়ির গতি স্বাভাবিক থাকায় চালকরা স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে এই স্বস্তি যাত্রীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেবল কাউন্টার পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা জানিয়েছেন, রাস্তার পরিস্থিতি ভালো জেনে তারা দ্রুত পৌঁছানোর আশা করেছিলেন, কিন্তু কাউন্টারে এসে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে বা ঘিঞ্জি কাউন্টারে চরম অস্বস্তিতে সময় পার করছেন। পরিবহন মালিকরা দাবি করছেন, তেলের সংকটের কারণে কিছু রুটে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই ভিড়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। দ্রুত এই সমন্বয়হীনতা দূর না হলে মহাসড়ক ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে না।
