দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলেও সামনে রয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার, জামিনে মুক্ত পেশাদার সন্ত্রাসীদের সক্রিয়তা, চাঁদাবাজি, মাদক ও উগ্রবাদী তৎপরতার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে না বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে ছিনতাই, মহাসড়কে ডাকাতি এবং সড়ক নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ও।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এখনও অনেক জায়গায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে এবং তখন পুরো দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর ওপরই থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফেরেনি। এর মধ্যে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কারাগার থেকে প্রায় দুই হাজার বন্দীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং শতাধিক উগ্রবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তি আইনশৃঙ্খলার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এছাড়া বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া প্রায় ১,৩০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ বাহিনীর শক্তিশালী পুনর্গঠন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোই পারে দেশে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে।
