২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল কারিগর ছাত্রনেতাদের হাত ধরে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে এই তরুণ দলীয় জোটটি মোট ছয়টি আসনে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। যদিও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তবে রাজপথের আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতাদের আইনসভায় প্রবেশকে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি গুণগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় এনসিপি প্রার্থীদের জয় প্রমাণ করে যে দেশের তরুণ ভোটাররা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে একটি বিকল্প শক্তির প্রত্যাশা করছে। দলটির প্রধান সমন্বয়ক এবং অন্যতম তরুণ বিজয়ী নাহিদ ইসলাম এই জয়কে ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ গঠনের পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংসদে ছয়টি আসন পেলেও এনসিপির লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং উচ্চাভিলাষী। তারা মূলত একটি শক্তিশালী ‘প্রেশার গ্রুপ’ বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে, যাতে অভ্যুত্থানের সময় দেওয়া রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো নতুন সরকার ভুলে না যায়। এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারে আমূল সাংবিধানিক পরিবর্তন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং গত দেড় দশকের রাজনৈতিক দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড়ে মাত্র ছয়জন সংসদ সদস্য নিয়ে তারা কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই তরুণ সাংসদরা কীভাবে রাজপথের দাবিগুলোকে সংসদীয় বিতর্কে রূপান্তর করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
