পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নে অবস্থিত এক স্কুলশিক্ষকের বাড়ি এখন হাজারো পাখির নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। পূর্ব মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান এবং তাঁর পরিবারের দীর্ঘ ৪০ বছরের মমতা ও ভালোবাসায় বাড়িটি এখন একটি জীবন্ত পাখির অভয়ারণ্য। সম্প্রতি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও ‘অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালী’ সংগঠনের উদ্যোগে বাড়িটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিহঙ্গ বিলাস’ নামকরণে পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষক আখতারুজ্জামানের বাগানবাড়িটি বর্তমানে বক, পানকৌড়ি ও বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই বাড়িতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির কলোনি’ সংবলিত একটি নির্দেশিকা বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যা ওই এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শিক্ষক আখতারুজ্জামান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান যে, কয়েক দশক আগে থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখি তাঁদের বাড়ির গাছপালাগুলোতে বাসা বাঁধতে শুরু করে। পাখির মলমূত্র ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে কিছুটা অসুবিধা হলেও প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তাঁরা কখনো পাখিদের তাড়াননি। বরং কোনো পাখি অসুস্থ বা আহত হলে তাঁরা নিজ উদ্যোগে সেবা করে সুস্থ করে তোলেন এবং শিকারিদের হাত থেকে রক্ষায় সদা তৎপর থাকেন। স্থানীয় প্রশাসনের এই স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে এই অভয়াশ্রমে কোনো প্রকার পাখি শিকার বা উত্ত্যক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় হবে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই বিরল উদ্যোগটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারিভাবে এই শিক্ষককে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বর্তমানে ‘বিহঙ্গ বিলাস’ গ্রামবাংলার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক অনন্য মডেলে পরিণত হয়েছে।
