পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে পর্যটনের ভরা মৌসুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও তীব্র জ্বালানি তেল-সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ভ্রমণ। জেলা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। বিশেষ করে যারা নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পগুলোতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক পর্যটক দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে মাঝপথেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে পর্যটন শহরটির পরিবহন ব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা সামগ্রিক পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নীলগিরি, থানচি ও সাজেকের মতো দূরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতকারী জিপ বা ‘চাঁদের গাড়ি’ গুলোর ওপর। চালকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তাদের দ্বিগুণ দামে কালোবাজারি থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের পকেটেই। সাধারণ ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় পর্যটক ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ঘটছে। এছাড়া শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও বাইক ট্যাক্সিগুলোও তেলের অভাবে রাস্তা থেকে কমে যাওয়ায় সাধারণ পর্যটকদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করা হলেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পর্যটকদের এই বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে আগে থেকে জ্বালানির মজুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। তেলের সংকটের কারণে শুধু পরিবহন নয়, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও জেনারেটর চালাতে সমস্যা হচ্ছে, যা পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা আরও সীমিত করে দিচ্ছে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ঘোরার আনন্দ এখন তেল খোঁজার দুশ্চিন্তায় ম্লান হয়ে গেছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বান্দরবানের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতির উত্তরণে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
