আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আদালত অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এম এইচ পাটোয়ারী বাবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টে লাইক, শেয়ার এবং অবমাননাকর মন্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার ও তাঁদের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বলে ট্রাইব্যুনালের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিযুক্তের সন্ধানে ইতিমধ্যে রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম সেনপাড়ায় তাঁর বাসভবনে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালীন এম এইচ পাটোয়ারী বাবুকে সেখানে পাওয়া যায়নি, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অভিযানকালে তাঁর বাসা থেকে একটি স্যামসাং ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, জব্দকৃত ফোনটিতে অভিযুক্তের ফেসবুক আইডিটি সচল অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা পোস্টটির উৎস সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। তাঁকে গ্রেপ্তারের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এম এইচ পাটোয়ারী বাবু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনিরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, তাঁরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করেছেন। এই মিথ্যা ও অবমাননাকর দাবিটি ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা আরও জানান যে, কেবল মূল পোস্টকারীই নন, বরং এই মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত ৫০টি ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হয়েছে যারা পোস্টটি ছড়িয়ে দিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিচার বিভাগীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিচারকদের সম্মানহানি করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো প্রকার উস্কানিমূলক বা মিথ্যা প্রচারণাকে বরদাস্ত করা হবে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা এই আদেশকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার প্রবণতা রোধে এই ধরনের তড়িৎ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পলাতক এম এইচ পাটোয়ারী বাবুকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ডিভাইসটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে যাতে এই প্রচারণার পেছনের আরও গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা সম্পৃক্ততা উন্মোচন করা সম্ভব হয়। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।
