February 26, 2026
Screenshot 2026-02-26 123158

নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই নারী শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত ও হেনস্থা করার একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, টিএসসি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থী যখন ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন বখাটে যুবক তাদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এবং পথরোধ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে প্রক্টোরিয়াল টিম দ্রুত একটি প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি বা প্রোব বডি গঠন করেছে। এই কমিটির মূল কাজ হলো ঘটনার নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা এবং এতে কোনো শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বর্তমানে যে জাতীয় উদ্বেগ রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি প্রশাসনের এই তৎপরতা বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, দোষী ব্যক্তিদের পরিচয় যাই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে এই তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে যাতে অপরাধীরা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারীর অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছোট-বড় বেশ কিছু হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রক্টর অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্যাম্পাসের অন্ধকার এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ করার পর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো নির্ধারিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা ক্যাম্পাসকে সব ধরনের নিপীড়ন ও হয়রানি মুক্ত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঘটনাটি বর্তমানে বাংলাদেশের সামাজিক ও ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট আলোচিত হচ্ছে, কারণ এটি নারী অধিকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপ যদি শেষ পর্যন্ত বিচারিক সফলতায় পৌঁছায়, তবে তা শিক্ষার্থীদের মাঝে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *