October 23, 2026
WhatsApp Image 2026-10-18 at 11.11.40 AM

দুর্গোৎসবের ছুটির আবহে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় বেড়াতে এসে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন নারী-শিশুসহ ১০ জন পর্যটক।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে ইট ও কাঠের তৈরি তিনতলা ‘টুপটুপ’ নামের রিসোর্টে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আগুনের লেলিহান শিখায় কক্ষেই অঙ্গার হতে হয়েছে নিহতদের।

অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫), ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

আগুন থেকে বাঁচতে যাঁরা লাফ দিয়েছেন, তাঁরাই শুধু প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। নারী ও শিশুরা লাফ দিতে না পারায় তারা মারা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৩ মে রিসোর্টটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালান। আগুনে রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনাই পুড়ে যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, টুপটুপ রিসোর্টে মোট কক্ষ ছিল ৯টি। গত শুক্রবার রাতে তিন কক্ষের পর্যটকরা চেকআউট করে চলে যান। অন্য ছয় কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ-ছয় জন সকালে বেরিয়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর খবর পেয়ে সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সবাই পালিয়ে গেলেও ম্যানেজার সুমন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জন পর্যটক আশিকুল ইসলাম আশিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও তাঁর পারিবারিক স্বজন। তাঁরা সবাই রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা। এ মধ্যে রয়েছে আশিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মালিহার বোন খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), মালিহার কাজিন মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), আত্মীয় নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফারিহা কবিরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। এ ছাড়া ঢাকার আশুলিয়ার স্কুল শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার পরিচয় মিলেছে। অন্য তিনজনের পরিচয় এখনো মেলেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *