বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্লোবাল নেটওয়ার্কের তথ্যমতে, দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে পুষ্টিহীনতার হার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা এবং কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে চাল, ডাল ও তেলের মতো মৌলিক খাদ্যের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল এক জনগোষ্ঠী বাধ্য হয়ে খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা এবং টেকসই কৃষি নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার এই অবনতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
