ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালীতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই চাষিদের। আসন্ন তিন দিবসের বাজার ধরতে ব্যস্ত ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। প্রকৃতিতে গরমের আভাস থাকায় গোলাপের প্রস্ফুটন ঠেকাতে গোলাপ-কলিতে পরানো হচ্ছে ক্যাপ। গদখালী ফুলের বাজারও জমে উঠছে ধীরে ধীরে। তিন দিবস- বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস আর মাতৃভাষা দিবস ঘিরে শত কোটি টাকার ফুল বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সাইকেল-ভ্যানে বাহারি ফুল নিয়ে বাজারে এসেছেন চাষিরা, তাদের কারও কাছে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা হঠাৎ গরম পড়ায় ফুল ফুটে যাওয়ায় বাজারে ফুলের যোগানও বেশি। একশ পিসের আঁটি বেঁধে ১৩ আঁটি গোলাপ নিয়ে এসেছেন পানিসারার হাঁড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান।
সাইকেলের পেছনে বেঁধে বিক্রির জন্য গদখালী বাজারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। বাজারে আসার পর ব্যাপারীরা দাম-দর করছেন। ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ফুলের উৎপাদন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আসন্ন তিনটি বিশেষ দিবস ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। কোনো দুর্যোগ এবং রাজনৈতিক কোনো প্রভাব না পড়লে অন্তত শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তারা। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, যশোরে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয় এবং এ ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। আসন্ন বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ব্যাপক ফুল বিক্রি হলে চাষিদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
