সংস্থা: সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। এই ‘হরিলুটে’ হুমকির মুখে রয়েছে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, ৮৬ কোটি টাকার আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং ঐতিহ্যবাহী অদ্বৈত মন্দিরের মতো স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে ইজারাদার এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে এই নদীতে লুটপাট চালিয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতাদের মিত্র হিসেবে পেয়েছেন ইজারাদাররা। বিশেষ করে গত ৭ থেকে ১১ অক্টোবর ৫ দিনে প্রায় শত কোটি টাকার বালু লুটের ঘটনায় স্থানীয়রা হতভম্ব।
রূপ ও সম্পদের নদীখ্যাত যাদুকাটার উৎপত্তি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় থেকে। নদীটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বারেকটিলা ও লাউড়গড়ের মাঝ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। একসময় এর দৈর্ঘ্য ছিল পাঁচ কিলোমিটার আর গড় প্রস্থ ৫৭ মিটার (১৮৭ ফুট)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলেমিশে লুট হচ্ছে আন্তঃসীমান্ত নদী যাদুকাটার খনিজ বালু। ইজারাদার, রাজনীতিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এই লুটের অংশীদার। ভাগ-বাটোয়ারায় কমবেশি হলেই লুটপাটে যুক্তরা একে অন্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন।
সম্প্রতি কয়েকদিনের বালু লুটের কাণ্ডে প্রশাসনে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রশাসনের অভিযানে অনেক নিরীহ শ্রমিকের জেল-জরিমানা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন অন্তরালের বালুখেকো মহাজনরা। যদিও একাধিক মামলায় আলোচিত কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।
গত ১৪ অক্টোবর তাহিরপুর থানায় বালুমহাল ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই দিনে তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হকও ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় আরেকটি মামলা করেন।ইজারাদারের পক্ষে করা মামলার আসামি নিয়ে সমালোচনা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীসহ আলোচিত কয়েকজনের নাম আছে। এ মামলায় উপজেলার সোহালা গ্রামের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আফতাব উদ্দিন, তার বড়ভাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রাখাব উদ্দিন, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ সরকার, নদীতীরের বাসিন্দা মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বারের নাম আছে। রানু মেম্বার একই অভিযোগে এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত কয়েকদিনে ইজারাবহির্ভ‚ত নদীর পাড় ও জায়গা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন সংক্রান্ত মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন লাউড়গড় গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক আব্দুল কাইয়ুম খেলু মাস্টার, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন, একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ কর্মী আবু বক্কর, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, পুরান লাউড়গড় গ্রামের তিন সহোদর- শিপন, শোভন, শাহান, বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাপ মাহমুদের চাচাতো ভাই ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আব্দুল মান্নান।
