February 24, 2026
date

দেড়-দুই দশক আগেও বাংলাদেশের খেজুর আমদানির প্রায় পুরোটা নির্ভর ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর। তবে এখন বাজারে যে খেজুর পাওয়া যায়, তার সবই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সারা বছর খাওয়ার প্রবণতা এবং বাজারে বৈচিত্র্য আনার কারণে এখন আমদানির উৎস অনেক বিস্তৃত হয়েছে।

দুই দশক আগের চিত্র ধরা যাক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫–০৬ অর্থবছরে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে খেজুর আমদানি হতো। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ এসেছিল ইরান থেকে এবং প্রায় ২২ শতাংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। বাকি তিন দেশ থেকে মোটে ৫ শতাংশ। তখন খেজুর মূলত রোজার সময়েই বাজারে দেখা যেত। বছরে আমদানি হতো ২০–২২ হাজার টন। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সারা বছর খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় খেজুরের আমদানি বছরে প্রায় লাখ টনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের খেজুরও এখন ইফতারের টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৩টি দেশ থেকে ৯২ হাজার টন খেজুর আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ থেকে এসেছে মোট আমদানির ৮৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তিউনিসিয়া, মিসর, আলজেরিয়াসহ আফ্রিকার ৪ দেশ থেকে এসেছে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাকি প্রায় ২ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, জাপানসহ ১৩টি দেশ থেকে। অর্থাৎ, বাজার এখনো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর থাকলেও উৎসের বৈচিত্র্য দ্রুত বাড়ছে। বাজারে ১৫ থেকে ২০ জাতের খেজুর পাওয়া যায়।

খেজুর আমদানির তুলনামূলক নতুন উৎসগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। পরিমাণ কম হলেও উৎপাদনে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ২০–এর মধ্যে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৩৭টি দেশে প্রায় ১ কোটি টন খেজুর উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৮তম; দেশটিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার টন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *