শিশুর অভিভাবক হওয়ার মানে হলো, আপনি কখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন না। প্রায় সারাক্ষণই শিশুর কোনো না কোনো বিষয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। কারণ, শিশুরা বড়দের মতো নয়। তারা নিজের যত্ন নিতে পারে না। সেই খেয়াল রাখতে হয় বড়দের। শীতের সময়ের মতো গরমেও শিশুর যত্নে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গরমে শিশুর সুস্থতায় কী করবেন-
শিশুর পানিশূন্যতা এড়াতে, বিশেষ করে খেলার সময়, তারা যেন ঘন ঘন জল পান করে তা নিশ্চিত করুন। শিশুর জন্য তরমুজ, স্ট্রবেরি এবং কমলার মতো বেশি জলীয় উপাদানযুক্ত ফল চমৎকার নাস্তা হতে পারে। চেষ্টা করুন গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের ফল শিশুকে খেতে দিতে। এতে একদিকে তার শরীর যেমন পানিশূন্যতা থেকে বাঁচবে তেমনই প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টিও শরীরে প্রবেশ করবে।
বাইরে যাওয়ার ১৫-৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য টুপি, সানগ্লাস এবং হালকা ওজনের লম্বা হাতার পোশাক ব্যবহার করুন। এতে সরাসরি রোদ এসে শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারবে না। শিশুদের ত্বক বড়দের থেকে বেশি কোমল। তাই তাদের ক্ষতি হওয়ার ভয়ও বেশি থাকে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। এসময় শিশু যেন বাইরের রোদে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাইরের কার্যকলাপের জন্য খুব সকালে বা শেষ বিকেলে পরিকল্পনা করুন।
গরম গাড়িতে শিশুদের কখনও একা ফেলে রাখবেন না। ঘন ঘন ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নিতে উৎসাহিত করুন। বাড়িতে থাকলে ঠান্ডা ও আরামদায়ক স্থানে রাখুন। স্কুলে থাকলে সে যেন বাইরে বের হয়ে অতিরিক্ত গরমের ভেতরে দৌড়ঝাঁপ না করে তা বুঝিয়ে বলুন।
গরমে শিশুর খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড ধরনের খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু গরমে তাদের এ ধরনের খাবার দেওয়া থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকুন। এর বদলে বাড়িতে তৈরি হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন। তাতে শিশুর সুস্থ থাকা সহজ হবে।
