March 24, 2026
ঈদে পর্যটকদের ঢল, খাগড়াছড়িতে হোটেল-রিসোর্ট হাউসফুল

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি-তে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ বিরতি হিসেবে উঠে এসেছে খাগড়াছড়ি। ফলে এবারের ঈদে এই পাহাড়ি জেলায়ও পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সড়কপথে সাজেক যেতে হলে খাগড়াছড়ি হয়ে যাত্রা করতে হয়, এবং নির্দিষ্ট সময়সূচির কারণে পর্যটকদের এখানে এক রাত অবস্থান করতে হয়। এই সুযোগে তারা জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র যেমন আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতা পুকুর, মায়াবিনী লেক ও পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির ঘুরে দেখছেন।
ঈদের পরের দুই দিনে জেলার প্রায় সব হোটেল ও রিসোর্ট ছিল পুরোপুরি বুকড। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে গত কয়েক বছরে এখানে নতুন নতুন রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঐতিহ্যে সাজানো এসব রেস্তোরাঁতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় যানবাহন মালিকদের মতে, ঈদের ছুটিতে প্রায় সব গাড়ির বুকিং সম্পূর্ণ ছিল। অনেক পর্যটক গাড়ি না পেয়ে বিকল্প হিসেবে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেছেন।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতাও ছিল ইতিবাচক। ঢাকার এক পর্যটক জানান, আলুটিলা পাহাড় থেকে শহরের দৃশ্য তাঁর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লেগেছে। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।
খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিনই হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছেন। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে একদিনেই পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। একইভাবে হর্টিকালচার পার্কেও কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।
পর্যটকদের আগমনে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, ঈদের পর থেকেই ভিড় এতটাই বেড়েছে যে বসার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই আগাম খাবারের বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, সাজেক যাত্রার একটি অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি এখন নিজস্ব পর্যটন আকর্ষণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও পর্যটক টানবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *