May 20, 2026
image (10)

মৌসুমের শুরুতে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে আম আসা শুরু হয়েছে। নগরের ফলমন্ডির সব আড়ত ও দোকানে সাজানো আছে নানা জাতের আম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাড়িতে গাড়িতে আম আসছে। সরবরাহ বুঝে নেওয়া, দাম হিসাব করা, বিক্রি করা—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

‘আল্লার দয়া স্টোর’ চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি ফলের আড়ত। স্টেশন রোডে অবস্থিত ফলমন্ডির ভেতরে এই আড়তের অবস্থান। গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল শ্রমিক ও মালিকদের ব্যস্ততা। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শাহ আলম জানান, রাজশাহী, নাটোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি আম এনে বিক্রি করেন তাঁরা। তবে এখন বিক্রি হচ্ছে সাতক্ষীরার আম। গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁদের আড়তে আম আসতে শুরু করেছে।

সবে আমের মৌসুম শুরু হলেও এখন প্রতিদিন এক থেকে দুই গাড়ি আম আসছে আল্লার দয়া স্টোরে। এক গাড়িতে থাকে ৫০০ ক্রেট, এক ক্রেটে থাকে গড়ে ২৫ কেজি। অর্থাৎ এক গাড়িতে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কেজি আম। মৌসুমের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে প্রতিদিন পাঁচ-ছয় গাড়ি আম আসে এই প্রতিষ্ঠানে। শাহ আলম বলেন, ‘আমের মৌসুমে বিক্রি বেড়ে যায়। এ সময় ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকে। তাই এই ব্যস্ততা আনন্দের।’

দেশে আমের প্রধান উৎপাদনক্ষেত্র হলো রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা ও পার্বত্য জেলা। মূলত এসব জেলার বাগান থেকেই চট্টগ্রামের ফল ব্যবসায়ীরা আম আনেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি এসব অঞ্চলে গিয়ে বাগান কিনে আম সংগ্রহ করেন।

চট্টগ্রামের বাজারে মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের আম আসে। এবার মে মাসের শুরুতে এসেছে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও হিমসাগর। জুনে শুরু হবে আম্রপালি, ফজলি, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, আশ্বিনা ও রুপালি আমের মৌসুম। সরবরাহ সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে গুটি, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, সীতাভোগ ও গোবিন্দভোগ পাওয়া যাচ্ছে। কাটিমন ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো নামের দুটি বিশেষ জাতও দেখা যাচ্ছে বাজারে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, এ বছর দেশে আমের উৎপাদন বেশি হয়েছে। দামও হাতের নাগালে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার পর সরবরাহ বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *