বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এক বিশেষ বার্তায় তিনি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক সম্মান এবং অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি বাংলাদেশের সাহসী জনতাকে স্যালুট জানান, যারা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
মার্কো রুবিও তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের নিবিড় কাজের প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রশংসা অব্যাহত রাখবে এবং এই সংকট নিরসনে ঢাকার পাশে থাকবে বলে তিনি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অদম্য শক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। মার্কো রুবিওর মতে, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিই দুই দেশের মৈত্রীর ভিত্তি। স্বাধীনতা দিবসের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য ও শান্তিময় অগ্রযাত্রা কামনা করেন। তার এই অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। স্বাধীনতা দিবসের এই শুভক্ষণে বিশ্বনেতাদের এমন সংহতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে আরও সমুন্নত করে।
