বাংলার গলিতে শত শত ভিন্ন খাবার ছড়িয়ে আছে, অনেক খাবার সময়ের সাথে হারিয়ে যায়। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী, স্বাদে ভরপুর খাবার হল নিমপোখ। সাম্প্রতিককালে নিমপোখ আবার খাবার প্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কেউ ময়দা, কালো জিরা এবং কিছু বিশেষ মশলা মিশিয়ে নিমপোখ তৈরি করে। নিমকির মতোই দেখলেও নিমপোখের গঠন ও স্বাদে ভিন্নতা আছে। ছোট আকারের নিমপোখ মচমচে, নোনতা স্বাদে ভরপুর। বিকেলের চা সঙ্গে নিমপোখ এক দারুণ সঙ্গী হয়ে ওঠে।
নিমপোখ বানাতে অনেক পরিশ্রম লাগে, কাজটা হাতে করা। প্রথমে ময়দা, লবণ, কালো জিরা এবং ঘি বা তেল মিশিয়ে ভালো করে মাখতে হয়। মাখা ময়দা থেকে মসৃণ মণ্ড তৈরি করে ছোট টুকরো কেটে হাতে আকৃতি দেয়। অথবা টুকরো কেটে ডুবো তেলে হালকা আঁচে ভাজে। ভাজার তাপ ঠিক না হলে নিমপোখের মচমচে স্বাদ হারায়। আগে গ্রামবাংলার মেলায় নিমপোখ খুব জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু এখন নতুন স্ন্যাকের মধ্যে পেছনে চলে গিয়েছে। সম্প্রতি দেশীয় খাবারের প্রতিটি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কুটির শিল্পের বিস্তার চলছে। এই সবের ফলে নিমপোখ আবার বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে।
অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঘরে বসে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে নিমপোখ তৈরি করে এবং তা অনলাইনে বিক্রি করে। এভাবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবার ফিরে আসছে। একই সঙ্গে নিমপোখ তৈরি করা উদ্যোক্তা ও কর্মীদের কাজের সুযোগ দিচ্ছে। রাসায়নিক প্রিজারভেটিভমুক্ত নিমপোখ মানে সাধারণ মানুষের ছোট নিমপোখের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতনরা বলেন, বাজারের চিপস বা কৃত্রিম রঙের খাবারের তুলনায় ছোট নিমপোখের দেশীয় খাবার বেশি নিরাপদ। ছোট নিমপোখের ফিরে আসা শুধু খাবারের গল্প নয়; ছোট নিমপোখের ফিরে আসা আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। নতুনত্ব যোগ করলে ছোট নিমপোখের প্যাকেজিং ও বিক্রয় পদ্ধতি উন্নত হয়, ফলে ছোট নিমপোখ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান পায়।
