কৃষিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ডিজিটাল কৃষি কার্ড’ উদ্বোধনকালে এক আশাবাদী বার্তা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি এই কার্ডকে কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মন্ত্রীর মতে, এই আধুনিক কার্ডের সঠিক ব্যবহার বাংলাদেশের কৃষি খাতকে কেবল শক্তিশালীই করবে না, বরং দেশীয় উৎপাদনকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে যেখানে আমরা খাদ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হতে পারব। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসাই এই কার্ডের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কৃষকরা বীজ, সার ও ঋণের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন, যা মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং উৎপাদনের গতি ত্বরান্বিত করবে।
এই ডিজিটাল কার্ডটি মূলত কৃষকদের জন্য একটি পরিচয়পত্র এবং তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে, যেখানে প্রতিটি কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন এবং সরকারি সুবিধার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে। কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তির এই সমন্বয় কৃষকদের সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ পেতে সাহায্য করবে, যার ফলে ফসলের অপচয় কমবে এবং ফলন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কৃষি ব্যবস্থাকে স্মার্ট করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, এই কার্ডের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকরা আর অবহেলিত থাকবেন না, বরং তারা হয়ে উঠবেন দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পরিশেষে, মন্ত্রী সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই কর্মসূচিকে তৃণমূল পর্যায়ে সফল করার আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি কৃষক এই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করে দেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন।
