দেশের সুবিধাবঞ্চিত পরিবার এবং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তার জন্য নতুন করে টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না, বরং সুপরিকল্পিত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমেই এই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির অর্থনৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন। সরকার এই খাতগুলোকে সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল করার মাধ্যমে অপচয় রোধ করবে এবং সেই অর্থই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এটি কোনো অতিরিক্ত বোঝা নয়, বরং বিদ্যমান বাজেটেরই একটি কার্যকর পুনর্বিন্যাস।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে টাকা প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তা সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। কার্ডধারীরা সাধারণত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন, যা দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করবে। এটি কোনো অনুদান নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্থানীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা নেই, বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী জানান, তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ৩৭ হাজার পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে।
একই সাথে কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিকে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন তারা। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করা এবং হতদরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
