May 11, 2026
image (60)

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধের উত্তাপে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস শ্রমবাজার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে মোহাম্মদ মোর্শেদের মতো হাজারো প্রবাসী শ্রমিকের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা মোর্শেদ চার বছর আগে বুক ভরা আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করে যা আয় করতেন, তা দিয়ে সচ্ছলভাবেই চলত তার পরিবার। কিন্তু ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত তার সাজানো জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে দুবাইয়ের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসায় মালিক পক্ষ তার রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। ফলে অনেকটা শূন্য হাতেই গত এপ্রিলে দেশে ফিরতে হয় তাকে।

মোর্শেদের ভাষায়, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেঁচাবিক্রি কমে যায় এবং চারপাশের অস্থিরতায় মালিক দোকান বন্ধ করে আমাদের ছুটি দিয়ে দেন। কথা ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ডাকবেন, কিন্তু যুদ্ধ থামার খবর শুনলেও এখন পর্যন্ত কোনো ডাক আসেনি।” বর্তমানে আয়ের উৎস হারিয়ে মোর্শেদের পুরো পরিবার বিপাকে পড়েছে। জমানো টাকা ফুরিয়ে আসায় সামনের দিনগুলোতে সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তায় তিনি দিশেহারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা শুধু মোর্শেদদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় সংকেত। প্রথাগত এই বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার সময় এসেছে। পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া কিংবা দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে বেকারত্বের এই বোঝা আরও ভারী হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় এবং ভিসা জটিলতা বাড়ায় নতুন করে যারা যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তারাও এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। মোর্শেদের মতো যারা ফিরে এসেছেন, তাদের পুনর্বাসন এবং নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *