May 21, 2026
Screenshot 2026-05-21 204319

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো জোরপূর্বক বা অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন) সরকারের এই সুনির্দিষ্ট এবং অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা তো তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই।” স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে যেকোনো অপরাধের বিচার প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাঁর সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির (Extradition Treaty) আইনগত ধারাগুলো খতিয়ে দেখে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর প্রস্তুতি চলছে। সরকার কোনো তাড়াহুড়ো বা আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের আইনি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাবে এবং এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *