দেশে হামের (measles) সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল, কারণ নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, মৃত শিশুটির মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে বেশিরভাগ আক্রান্তই শিশু, যাদের মধ্যে জ্বর, র্যাশ, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জেলায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং কম টিকাদান হার বা টিকাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকে। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় কিছু জায়গায় অতিরিক্ত শয্যা ও আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
