বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চকখানপুর গ্রামের মানুষের জীবনে আতঙ্কের নাম এখন বাঙালী নদীর ভাঙন। একসময় যেখানে ছিল ১৩০টি বাড়ি, গত ১৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ১১০টি পরিবারের বসতভিটা।
চকখানপুরের হাওলাদার পাড়ার ৭৫ বছর বয়সী চৈতন্য সরকার জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালানো এই মানুষগুলো এখন সেই নদীর কারণেই ঘর হারাচ্ছেন। বর্তমানে মাত্র ২০টি পরিবারের বসতঘর টিকে আছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেগুলোও হারানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অতিবৃষ্টি ও উজানের পানিতে বাঙালী ও করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। খানপুর, সুঘাট, সীমাবাড়ি ও অন্যান্য ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় নদীতীর, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অনেক পরিবার একাধিকবার বাড়ি সরালেও এখন আর নতুন করে বসতি গড়ার জায়গা নেই। ঘাসুরিয়া গ্রামের কয়েকটি বাড়ির অংশ নদীতে চলে গিয়েছে এবং নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেরও একটি অংশ বিলীন হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়ার পর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
