দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আর্থিক খাতের অপরাধ ও জালিয়াতি। কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে দেশজুড়ে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) শনাক্ত করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের পরিমাণ এক ধাক্কায় প্রায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা এবং অর্থ স্থানান্তরকারী মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া অস্বাভাবিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত লেনদেনগুলোকে ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র অর্থ পাচার, অবৈধ লেনদেন এবং হুন্ডির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর নজরদারি এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থা আগের চেয়ে জোরদার হওয়ার কারণেও এত বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক লেনদেন তালিকায় উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্থিক খাতের এই লাগামহীন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, সন্দেহজনক লেনদেন এতটা বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব বাড়ছে এবং অবৈধ পথে অর্থ পাচারের প্রবণতা তীব্র হচ্ছে। এটি শুধু ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থাই কমায় না, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকেও চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল লেনদেন শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর পেছনে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
