ঢাকাকে চারপাশ থেকে ঘিরে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর প্রাথমিক প্রকল্পে ১২২ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার পরও প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থলে ট্রাফিক জ্যাম কমানো এবং নগরবাসীর জন্য একটি বিকল্প ও আনন্দদায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পূর্বে এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নদীদূষণ, নাব্য সংকট, পর্যাপ্ত যাত্রীর অভাব এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পুরো প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে, যার ফলে সরকারের বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয় বা লোকসান হয়।
পরবর্তীতে দীর্ঘবিরতির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে বৃত্তাকার নৌপথটি পুনরায় সচল করার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এবারের উদ্যোগে নদীর তলদেশ খনন বা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য ফিরিয়ে আনা, আধুনিক ওয়াটার বাস ও জলযান সংযোজন এবং শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে উন্নত যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ঢাকার ক্রমবর্ধমান যানজটের কবল থেকে নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করতে এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে নীতিনির্ধারকরা আশাবাদী। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে অতীতের মতো জনগণের করের কোটি কোটি টাকা আবারও জলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
