নির্মল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ; ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে আজকের বাংলাদেশ। আগে ছিল প্রায় ২০০০ কিলোমিটারের অধীন পশ্চিম পাকিস্তানের একটি অংশ। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের বয়স বেড়েছে। বাড়েনি আন্ত জনসেবা। স্ক্যানিংয়ের নামে চলছে দুই পারেই যাত্রা হয়রানি। এ কোনো নতুন দৃশ্য নয়।
চ্যাংড়াবান্ধা এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার শাহ্ এক প্রতিনিধিকে বলেন,আমরা বিভিন্ন সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্থলবন্দরের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি বা এসেছি। কিন্তু কার্যত বলেছেন তেমনটা সুখকর নয়।
এবিষয়ে ক্ষোভের সঙ্গে অজয় কুমার শাহ্ জানান, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার কর্মজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের মধ্যে চালক, শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। বাংলাদেশের লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দরেও রয়েছে একই ধরনের সমস্যা। বুড়িমারী স্থলবন্দরের বন্ধু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন অজয় কুমার শাহ্ -র বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিমানে যাত্রী ও মালামাল পরীক্ষার জন্য যেমন স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনই স্থলবন্দরেও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু করা হলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং বাড়বে যাত্রীবান্ধবের মত সফল কর্মসূচী।

অজয় কুমার শাহ্ আরও বলেন, এক্সপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে চালু হয় স্থলবন্দর। চালু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে কোনও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তিনি জানান, ২০০৬ সালে কংগ্রেস সরকারের বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জয়রাম রমেশ চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছিলেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করে যান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে উল্লিখিত সমস্যাগুলির সমাধানের আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে তাঁদের ফল্প্রসু আলোচনা হয়। সূত্রমতে প্রতিনিধি দলকে দ্রুত দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেদিন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের ১৫ বছরের সময়ে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য তেমনকোনো পদক্ষেপ নেয় নি রাজ্য সরকার। অভিযোগ রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্যই থমকে গিয়েছিল উন্নয়ন কর্মসূচী। কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে। ২০২৬এ কেন্দ্রে এবং রাজ্যে রয়েছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। ব্যবসায়ী মহল এখন আশায় বুক বেঁধে আছে। এতদিনে হয়ত মিলবে কাঙ্খিত মুল্যায়নের চাবিকাঠি, কারণে স্থলবন্দরের প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ থমকে রয়েছে। অজয় শাহ্ মনে করেন স্থলবন্দরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বর্তমান ব্যবসায়িক সমস্যা এবং জনজীবনের প্রত্যাশার বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান।
এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার শাহ্ আরও বলেন, ভারত ও ভুটান থেকে নিয়মিত বাংলাদেশে পাথর রফতানি হয় বা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কিত বেশ কিছু সমস্যার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আগের তুলনায় পাথর রপ্তানি অনেকাংশেই কমেছে। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী মহল। বেড়ে গেছে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা। যা রীতিমতো হতাশাজনক।
অজয় শাহ্-র দাবি, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে দ্রুত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হলে যাত্রীদের হয়রানি অনেকটাই কমবে এতে করে কাজের গতিপ্রকৃতি বাড়বে। সেক্ষেত্রে,সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। তবে স্থলবন্দরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমস্যার সমাধানের জন্য বারবার যোগাযোগ করেও এখনও কোনও ফল মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর।
অজয় কুমার শাহ্ বলেন, স্থলবন্দরের সমস্যার বিষয়টি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকেও জানানো হয়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থলবন্দরের সমস্যাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর তাঁদের আর কী করার থাকতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন অজয় কুমার শাহ্ ।
