রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে গত ১৯ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে এরা কারা, কী উদ্দেশ্যে এরা জড়ো হয়েছিল শুধু কি মাদক নাকি অন্য কিছু- সে রহস্য কিছুতেই কাটছে না। রহস্যঘেরা ওই মাদক ও মদের আড্ডায় বেসরকারি কয়েকটি করপোরেট কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় তারা গা-ঢাকা দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
জানা গেছে, বাড়িটিতে রহস্যময় গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিতর্কিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কমপক্ষে ২০ জন কর্মকর্তা। ছিলেন গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ- আরএফএল গ্রুপ, ফিলিপ মরিস, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল সংযোজনকারী ও পরিবেশক এসিআই মোটরসসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত পদস্থ কর্মকর্তারা।আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও গোয়েন্দারা বলছেন, ওই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রহস্যময় কিছু ।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০ অক্টোবর ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ের ওই বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। সেখানে গত সোমবার রাতে অভিযানে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তবে অভিযান থামাতে নানামুখী তদবির করেন আব্দুল্লাহ আল জহির। কিন্তু তদবির উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখে ডিবি পুলিশ।
পরে সেখান থেকে মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৯ ও নারী ২৬ জন। আটকদের মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০ অক্টোবরই তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২৬ জনকে নেওয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে। অন্যরা আছেন কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ।
কারা, কী উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ডিআইজির ওই বাড়িতে জড়ো হয়েছেন, সেটা পরিষ্কার করেনি তদন্ত সংস্থা। ডিবি
পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের পেশা বা কী উদ্দেশ্যে তারা জড়ো হয়েছে, সেটা জানতে পারিনি। এর বেশি জানাননি তিনি। এমনকি যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম পরিচয়ও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ডিবিপুলিশের পক্ষ থেকে তালিকা প্রকাশ করতেও অপারগতা প্রকাশ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত এসব নারী ও পুরুষের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের। তাদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই কন্যা, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছেলে ও মেয়েরা রয়েছে। আছেন একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার ট্রেইনি ক্যাপ্টেনও। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বিস্তারিত পরিচয়, পেশা, সেখানে জড়ো হওয়ার উদ্দেশ্য, সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে।
খিলক্ষেত থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, আমাদের কাছে কোনো আসামি হস্তান্তর করা হয়নি। ডিবি পুলিশের অভিযানের পর মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও জরিমানা করা হয়। ডিবির তত্ত্বাবধানে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।
